নাটোরের গুরুদাসপুরে নিজ শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকা জাহেরা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজুর গ্রামে নিহতের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাহেরা বেগমের ছেলে জাকের হোসেন তার স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে স্থানীয় সুদ ব্যবসায়ী আলাল হোসেন, খবির উদ্দিন ও হাশেম আলীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। ওই সুদের টাকা আদায়ের জন্য তারা প্রায়ই জাকেরের বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগসহ নানারকম হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন বুধবার রাতে বৃদ্ধা জাহেরা বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতে ছেলে জাকের হোসেন ও তার স্ত্রী কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের শয়নকক্ষের মেঝেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত লাশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত জাহেরা বেগম ওই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় সুদকারবারিরা জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সুদের পাওনা টাকার জেরে ওই সুদকারবারিরাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"