ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী শাহেদা ফকিরকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (ঠেলে দেওয়া) করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নভি মুম্বাইয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও নথিপত্র আমলে না নিয়ে তাকে এই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার স্বামী জুম্মান ফকির জানান, গত ১৮ জুলাই সানপাদা বাজার থেকে শাহেদাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এরপর জন্ম সনদ, স্কুলের সনদ ও জমির দলিলসহ সমস্ত বৈধ ভারতীয় নথিপত্র আটল কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তিন দিন পর জোরপূর্বক তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আসাম সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পর শাহেদা বর্তমানে সাতক্ষীরার একটি স্থানীয় পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডে আক্রান্ত শাহেদা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং দ্রুত নিজের পরিবার ও ভারতে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

এদিকে শাহেদার পরিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে শাহেদার নথিপত্র যাচাইপূর্বক তার দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন নাগরিককে ভুলবশত একইভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে আইনি লড়াই ও বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল।