ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের দায়িত্ব পালনের ছয় মাস পূর্ণ হতে চলেছে। এই উপলক্ষে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বা বুকলেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা: রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ, সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জবাবদিহিতার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসা শুরুর সময় ১ বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামানো এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের জন্য ১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-৩১ মেয়াদে প্রায় ১ কোটি কর্মসংস্থানের কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা: ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার সুফল পেয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ কৃষক। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড চালুর মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার ২৭৮টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার: অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি: ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত: শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৫৬.৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং ডিজিটাল ক্লাসরুম চালুর কাজ এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।