শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) বাড়াতে পারলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, রুফটপ সোলারের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় হলো অর্থায়ন বা উচ্চ সুদহার। সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি সুদে বাণিজ্যিক অর্থায়ন করা হলে শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার প্রকল্প ব্যাংকের কাছে লাভজনক থাকে না। তবে মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া গেলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পোশাক কারখানা এই উদ্যোগে এগিয়ে আসবে। এজন্য সবুজ অর্থায়ন ও রেয়াতি ঋণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সেমিনারে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “ধীরে ধীরে পোশাক খাত রুফটপ সোলারের দিকে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তা করছে।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এই সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সম্ভাবনা প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। পোশাক খাতে সবমিলিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গা রয়েছে, যেখানে সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব। ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ২ হাজার ৩০৩টি কারখানায় সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় মাত্র ৩.০৪ টাকা, যা জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বর্তমানে প্রায় ৫০০ কারখানা এই খাতে তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে আরও ১ হাজার ৩০০ কারখানা এবং অতিরিক্ত ৪০০টির বেশি কারখানার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী জানান, তাদের গ্রুপ ইতোমধ্যে ২৯.২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বণিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদুল আলম এবং বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক উপস্থিত ছিলেন।