নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় দুই দিন আগে ঘটা আকস্মিক বন্যার পর এ পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
আজ শুক্রবার ভোরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে গত ২৬ আগস্ট বুধবার সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় আঘাত হানে এই বন্যা। লাখ লাখ টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা; নিখোঁজ হন বহুসংখ্যক মানুষ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীনের সরকারি মুখপাত্রদের বরাতে জানা গিয়েছিল, আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং জেলায় নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে নেপালের ৮২৬ জন এবং তিব্বতের ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক; যার মধ্যে নেপালে ৫০০ জন এবং তিব্বতে ২৬০ জন বিদেশি নিখোঁজ হয়েছেন।
বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা, পাথর ও জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছেন নিখোঁজ ব্যক্তিরা। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান চালাচ্ছে এবং শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছেন।
বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে দিবগা তামাং ছিলেন অন্যতম। তাকে আরও তিনজনের সঙ্গে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দিবগা তামাং বলেন, “আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।”