টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকায় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক ডিভোর্সি নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কবিরাজসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারীর বাবা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ আলআমিন ওরফে সেলিম (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়াগাছা ইউনিয়নের মালিবাজার এলাকার ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন মুসা ওরফে বাবু কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন। চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করতে বাবু কবিরাজ দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যান এবং রোগের বিবরণ ও খরচের বিষয়ে কথা বলেন।

গত শনিবার ওই নারী তার মায়ের সঙ্গে বাবু কবিরাজের বাড়িতে চিকিৎসা নিতে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মাকে অন্য কক্ষে বসিয়ে রেখে কবিরাজের সহযোগিতায় এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণ করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীর বাবা মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কবিরাজ ও ইমাম হাসান হৃদয় নামের দুইজনকে অভিযুক্ত করা হলেও পুলিশ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছেলে সেলিমকে আটক করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সেলিমকে আটকের পর স্থানীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে দুই ব্যক্তির নাম থাকলেও অন্য একজনকে কেন আটক করা হলো তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে কিনা তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার বাবা-মাকে থানায় আটকে রেখে অযত্ন ও অবহেলা করার অভিযোগও করেন তারা।

এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় আলআমিন ওরফে সেলিমকে আটক করা হয়েছে।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে যাকে আটক করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ধর্ষণের অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিষয়ে তদবির করতে থানায় আসা আইনসম্মত নয়। এছাড়া মামলার এজাহারে স্বাক্ষর ও এফআইআরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাদীর থানায় উপস্থিতি ও অবস্থান প্রয়োজন ছিল বিধায় তাদের পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী এবং তার বাবা-মাকে হেফাজতে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রবিবার তাদের টাঙ্গাইলে নেওয়া হলেও প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় পুনরায় মধুপুর থানায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং সোমবার সকালে আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আবার টাঙ্গাইলে পাঠানো হয়।

এদিকে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে থানায় গেলে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিভাবক হিসেবে পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ জানতে গেলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফ সোমবার বিকেলে জানান যে আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করা হবে।