দেশের বাদ পড়ে যাওয়া ছোট ছোট এলাকায় (পকেট এরিয়া) সঠিকভাবে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্তমানে মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার সন্ধ্যার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ জন শিশুকে (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যেসব ছোট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি, তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে। এর জন্য মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে।

হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও উন্নত ও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, হামে আক্রান্তদের মধ্যে—৬ মাসের কম বয়সীর হার ১০%, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সীর হার ৭৪%, ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়সীর হার ১৪%, ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সীর হার ২%।

এদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গে মোট ৮১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে। মৃতদের একটি বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং তারা অতীতে কোনো টিকাই গ্রহণ করেনি।