যশোরের চৌগাছায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড় ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করার জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চৌগাছা শাহাদত পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী বাবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. সালাম, সহসভাপতি ইউনুস আলী দফাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আউলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল হালিম চঞ্চল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জসীমউদ্দীন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ এবং পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চৌগাছা পৌরসভা ফুটবল একাদশ ও পাশাপোল ফুটবল একাদশের মধ্যকার একটি আকর্ষণীয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। দুই দলের খেলোয়াড়দের সাবলীল ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর ক্রীড়ামুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। টানটান উত্তেজনাময় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠজুড়ে স্থানীয় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
আয়োজকরা জানান, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদন এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
তারা আরও আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে চৌগাছার শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, তাদের প্রতিভা বিকাশের সঠিক সুযোগ তৈরি এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই আয়োজন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে চৌগাছার স্থবির ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এই মাঠ থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিভাবান ও খ্যাতিমান খেলোয়াড়রা দেশের সুনাম বয়ে আনবে।