টালমাটাল একটি বছরের পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সফরের জন্য ভারত সরকারের অনুমোদন ও স্পষ্ট নির্দেশনা চাইতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।

বিসিসিআই-এর একটি শীর্ষ সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড নিজস্বভাবে এই সফরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং সরকারের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে। সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে বিসিআইকে চিঠি পাঠিয়েছে এবং প্রস্তাবিত সিরিজটি নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। শিগগিরই সরকারের অনুমতি চেয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভারতের বিপক্ষে প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য বিসিবি ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি সময়সূচি তৈরি রেখেছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী তিনটি ওয়ানডে (১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর) এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি (৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর) ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পুরো সফরটি এখন ভারত সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূল সংকট তৈরি হয় গত জানুয়ারিতে, যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের আইপিএল ২০২৬ দল থেকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এর কড়া প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কা ও সরকারের পরামর্শে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার ও প্রচারণায় স্থগিতাদেশ জারি করে।

ফলে পরিবর্তিত এই সফরটি দুই প্রতিবেশীর ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সফরটি সফল করতে এবং স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে বিসিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।