ভারতের আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, তিনি এখানে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছেন, কারও আত্মীয় হিসেবে নয়। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের আরও পেশাদারত্ব বজায় রেখে প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মন্ত্রীকে তার আত্মীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও ‘প্রফেশনাল ওয়েতে’ প্রশ্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল, পলাতক শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাদির খুনিদেরও ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছে। কোনো আপডেট আছে কিনা? কবে নাগাদ ফেরত পাচ্ছেন আপনার আত্মীয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে?
জবাবে পার্থ বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আরও প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছেন— এটি সবাই জানে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও অনুরোধ ভারতের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার জানা মতে— ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে। আমার মনে হয়, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি তার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একা নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে এবং যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, বর্তমান সরকার তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে চায়।