পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাটমিক টেকনোলজিস লাইসেন্সড ফর অ্যাপ্লিকেশন্স অব সি (এটলাস) মন্ত্রীপর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এটলাসের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বক্তব্য রাখেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান যে, পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গভীর দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির উদীয়মান ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রথম গ্লোবাল স্টকটেকের ফলাফলে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা তিনগুণ করার উদ্যোগকে সমর্থন করে।
ঘনবসতিপূর্ণ এবং সীমিত নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
উদ্ভাবনী রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ উন্নত স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির সময়োপযোগী ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।
পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সেফগার্ডের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সিভিল নিউক্লিয়ার মেরিটাইম শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে বাংলাদেশ আইএইএর এটলাস উদ্যোগের সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।