সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতা সংক্রান্ত 'চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬'-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি বেতন স্কেলের সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কীভাবে ও কবে নাগাদ সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি ও গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের প্রথম অংশ এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে শতভাগ সুবিধা পাবেন।

তবে প্রজ্ঞাপনে দেশের প্রায় ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন স্কেল সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিতে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তারা চরম উদ্বিগ্ন। শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে মূল বেতনের শতভাগ পেয়ে থাকেন। ভাতা হিসেবে এতদিন তারা ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। আন্দোলনের মুখে সরকার বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে, যার প্রথম অংশ (৭.৫%) ২০২৫ সালের নভেম্বরে এবং চূড়ান্ত অংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। তবে নতুন জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে তাদের বর্তমান বেতন ও ভাতার সমন্বয় কীভাবে ঘটানো হবে, সে বিষয়ে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক কোনো পরিপত্র জারির আগ পর্যন্ত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা কাটছে না।