ফেনীতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষে অব্যয়িত ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৭টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পরশুরামের বক্সমাহমুদের ভেদা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষ হওয়ায় প্রকল্প দুটির অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডাঙ্গি খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি এর আগেও প্রাক্কলন নিয়ে আলোচনায় আসে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত খালের দৈর্ঘ্য, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাক্কলন যাচাই কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের তথ্যে দেখা গেছে, প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ছিল সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে। এ প্রকল্পে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৬২১ টাকা। অব্যয়িত ৪ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ৩২৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলার দাউদপুর-মধুয়াই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৫ টাকা। অব্যয়িত ১ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলার মোহাম্মদ আলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩১ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭০ টাকা। অব্যয়িত ৬১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার গতিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৭৫৪ টাকা। অব্যয়িত ১৬ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদের ভেদা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮২ টাকা। অব্যয়িত ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৬১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দাগনভূঞা উপজেলার বিরলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা। অব্যয়িত ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলার সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সমপরিমাণ বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা। অব্যয়িত ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৭টি প্রকল্পের মধ্যে শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে ৫টিতে। এগুলো হলো— ফুলগাজীর গতিয়া খাল, ফেনী সদরের দাউদপুর-মধুয়াই ও মোহাম্মদ আলী খাল এবং দাগনভূঞার বিরলী ও সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল।
শতভাগ কাজ শেষ না হওয়ার পরও অর্থ ফেরতের কারণ জানতে চাইলে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, অর্থবছর শেষ হওয়ায় প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, রাতে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। অফিস সময়ে এলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে।
ফেনী সদর উপজেলার দুটি প্রকল্প প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পুনঃখনন করা খাল দুটি স্থানীয়ভাবে পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পুনঃখনন করা খালগুলোর সুফল স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করবেন বলে আশা করছি।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!