জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার নয়, এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে জনগণ যে রায় দিয়েছেন তা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার তীব্র বিরোধিতা করা হবে।

আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে শ্রমিক সমাজ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ হওয়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি; এরপর ছাত্র এবং সাধারণ জনগণ সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।

সম্মেলনে পরিবহণ শ্রমিকদের পেশাগত ১২ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ার কারণেই আজ শ্রমিকদের এই দাবিগুলো উত্থাপন করতে হচ্ছে। জনগণের যেকোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী অতীতেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে আয়োজিত বাংলাদেশ পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার কারণেই তা সম্ভব হয়েছিল।”

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের ছিল না, এটি ছিল পুরো জাতির। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহণ শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরকারের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ব্যর্থতা স্বীকারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, সরকার যখন নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছে, তখন তাদের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।

বাংলাদেশ পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।