মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করে নজিরবিহীন বক্তব্য দিয়েছেন এক থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কক্ষে বসে চা খাওয়ার দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।

জনসাধারণের উদ্দেশে ওসি বলেন, “আমি মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করি না। কোনো জুয়ার বোর্ড থেকে পুলিশ টাকা নেয় না, মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি আমার নিজেরও কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে ওসি বলেন, “আজ পুলিশকে আপনাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছি। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের সঙ্গে মাদক বা জুয়াড়ির সামান্যতম সম্পর্কও থাকে, আপনারা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

সম্প্রতি উপজেলার হাজিরহাট বাজারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে খোলা মাঠে দেওয়া ওসির এই সাহসী ও ব্যতিক্রমী বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাজিরহাট বাজারে উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে সরাসরি পুলিশ সদস্যদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে ওসি ফরিদুল আলম এই ঘোষণা দেন।

তিনি আরও পরিষ্কার করে জানান, কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা জুয়াড়ির সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা কিংবা কোনো মাধ্যম হয়ে থানাগুলোতে আসার পথ বন্ধ করতে হবে। ভালো মানুষ হিসেবে আইনি সেবা নিতে যে কেউ যেকোনো সময় থানায় আসতে পারেন, কিন্তু অপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে ওসির কক্ষে চা খাওয়ার দিন শেষ। পুলিশ বাহিনী বা সমাজের কোথাও মাদক ও জুয়াড়িদের কোনো স্থান হবে না।

ওসির এই স্বচ্ছতা, সততা ও সরাসরি জবাবদিহিতার আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত শত শত মানুষ হাততালি দিয়ে এবং বুকভরা সমর্থন জানিয়ে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ওসির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে যদি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে খুব দ্রুতই ওই এলাকা মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত একটি সুস্থ সমাজে পরিণত হবে।