এস এম সাঈদ হোসেন রিপন: চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিঠু ওরফে 'ধামা ইলিয়াছ'-কে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেবিট ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার যশোরে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন যে, চট্টগ্রাম শহরের কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি বড় অঙ্কে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন।
ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। অন্যদিকে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ২১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। গতকাল আদালতে তোলার পর ধামা ইলিয়াছের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মৃত আবুল হোসেনের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
ওই তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ডেভিড ইমনসহ কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!