বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় রাকিবুল হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা না মেলায় ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রাকিবুল হোসেন। ঘটনার পর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ ঝিনাইদহে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে পিবিআই ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিুবর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ইলিয়াস মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা ও সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লা
অন্যদিকে, ঘটনার সময় মিরপুর এলাকায় উপস্থিত না থাকা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি কামরুল আরেফিন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের এমডি মো. লোকমান হোসেন এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।
তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিরা গোপন বৈঠকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ষড়যন্ত্র ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও পুলিশ কর্মকর্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর চেষ্টা করেন।
নিহত রাকিবুলের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। তবে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!