আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্ডার ওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা 'মেট রভ ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন-২০২৬'-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিজয়ী এই দলের সবাই বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এত বড় সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।" পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।

তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য দলটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এমআইএসটির উদ্ভাবকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করতে আগ্রহী বলে জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে গত ২৩-২৯ জুন অনুষ্ঠিত 'মেট রভ ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন'-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমআইএসটির 'মাভিরভ' দল চ্যাম্পিয়ন হয়। এতে রানার-আপ হয় যুক্তরাষ্ট্র এবং স্বাগতিক কানাডা অর্জন করে তৃতীয় স্থান। উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রকৌশল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং দলগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে দলটি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।