পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে সুস্থ শরীরে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (BIIRF)-এর মহাসচিব ডি এ পারভেজ।
শনিবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
এর আগে ওমরাহের আনুষ্ঠানিকতা, মক্কা-মদিনার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক অনুভূতি নিয়ে দৈনিক প্রথম বেলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব মো: শাহ আলম-র মুখোমুখি হন তিনি। সাক্ষাৎকারটির পূর্ণাঙ্গ রূপ নিচে তুলে ধরা হলো:
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থ শরীরে ওমরাহ সম্পন্ন করে দেশে ফেরায় আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। প্রথমবার পবিত্র কাবা শরীফ দেখার মুহূর্তটির অনুভূতি কেমন ছিল?
ডি এ পারভেজ: শুকরিয়া মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে। বায়তুল্লাহর দিকে যখন প্রথম দৃষ্টি পড়ে, তখনকার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছিল। মনে হয়েছিল যেন জীবনের সব ক্লান্তি, হতাশা আর পাপ নিমেষেই ধুয়ে-মুছে গেল। এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও শিহরণে হৃদয় ভরে উঠেছিল।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: ওমরাহের আবশ্যিক আমলগুলোর পাশাপাশি মক্কার ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ডি এ পারভেজ: মক্কা নগরীর প্রতিটি ধূলিকণাতেই জড়িয়ে আছে ইসলামের সোনালী ইতিহাস। ওহীর সূচনাভূমি ঐতিহাসিক 'জাবালে নূর' বা হেরা গুহা এবং হিজরতের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.)-এর আশ্রয়স্থল 'জাবালে সাওর' দেখার মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জন্মস্থান, ঐতিহাসিক 'জাবালে রহমত' বা আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়ার পুনর্মিলন এবং বিশ্বনবীর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানটি অনুধাবন করা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: মক্কার অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান যেমন মুজদালিফা বা মিনা দর্শনের অভিজ্ঞতা যদি একটু বলতেন...
ডি এ পারভেজ: জামারাত (শয়তানকে পাথর মারার স্থান), মিনা ও মুজদালিফার প্রান্তর ঘুরে দেখার সময় হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের অসামান্য ত্যাগের কথা বারবার মনে পড়ছিল। সেখানে গিয়েই অনুধাবন করেছি—কীভাবে একজন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয়তম বস্তুকে উৎসর্গ করতে পারে।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: রওজা মোবারক জিয়ারত এবং পবিত্র মদিনা নগরীর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ডি এ পারভেজ: মদিনায় প্রবেশ করতেই এক অলৌকিক স্নিগ্ধতা ও শান্তি অনুভব করেছি। প্রিয় নবীজি (সা.)-এর রওজা মোবারকের সামনে দাঁড়িয়ে সালাতু সালাম পেশ করার মুহূর্তটি জীবনের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়। এরপর ইসলামী ইতিহাসের প্রথম মসজিদ 'মসজিদে কুবা'-য় দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছি, যার সওয়াব একটি ওমরাহের সমান। এছাড়া দু'টি ক্বিবলার সাক্ষী ঐতিহাসিক 'মসজিদে কিবলাতাইন' এবং খন্দকের যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত 'মসজিদে সাবআ' বা সাত মসজিদ পরিদর্শন করেছি।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: ওহুদ যুদ্ধের প্রাঙ্গণ ও শুহাদায়ে ওহদের কবরস্থান জিয়ারতের সময় নিশ্চয়ই এক ভিন্ন মানসিক অনুভূতি তৈরি হয়েছিল?
ডি এ পারভেজ: একদম তাই। ঐতিহাসিক ওহুদ পাহাড় এবং হযরত হামজা (রা.) সহ ৭০ জন শহীদের শাহাদাতের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এক ট্র্যাজিক কিন্তু ঈমানী উদ্দীপনা অনুভব করেছি। সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সাহাবিদের সেই আত্মত্যাগের কথা চিন্তা করে চোখে পানি ধরে রাখা কঠিন ছিল।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: এই পবিত্র স্থানগুলোতে দাঁড়িয়ে দেশ, জাতি ও মানবজাতির জন্য আপনার বিশেষ কী দোয়া ছিল?
ডি এ পারভেজ: প্রতিটি মোবারক স্থানে দাঁড়িয়ে আমি কান্নাকাটি করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করেছি। দেশের মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করেছি।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: মানবাধিকার ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে আপনার এই সফর কীভাবে নতুন প্রেরণা দেবে বলে মনে করেন?
ডি এ পারভেজ: নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ ও সাহাবিদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কাছ থেকে অনুধাবন করার পর মনে হয়েছে, বঞ্চিত মানুষের সেবা করার চেয়ে উত্তম কিছু হতে পারে না। এই আধ্যাত্মিক সফর আমার দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার নতুন শক্তি জুগিয়েছে।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: বিমানবন্দরে আপনাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানাতে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা এসেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
ডি এ পারভেজ: বিএইচআরএফ-এর সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আমার পরিবারের ভালোবাসায় আমি অভিভূত। যাঁরা আমার সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, সবার প্রতি আমার বিনম্র কৃতজ্ঞতা এবং 'ফিনিক্স বাংলা' পরিবারকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই।
আলহাজ্ব মো: শাহ আলম: আপনার মূল্যবান সময় ও স্মৃতি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডি এ পারভেজ: আপনাকে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য 'দৈনিক ফিনিক্স বাংলা' পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!