হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী এবং এক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দিন ও রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে তাদের গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের পিএস-এর ভাইকে আটক করেও পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে গ্যানিংগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ইয়াবা ব্যবসায়ী ছালেক মিয়াকে (৪৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা ও পরোয়ানা রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছালেক ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তাদের গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বেরিয়ে তারা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

এদিকে বুধবার রাতে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে পাড়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির মামলায় জুয়েল ডাকাতকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া একই রাতে যাত্রাপাশা মহল্লায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আজমল মিয়া (৩৫) নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজমলের বিরুদ্ধেও পূর্বে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গত ১৭ আগস্ট ভোররাতে পাড়াগাঁও মহল্লায় ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় গত ২৪ আগস্ট বিকেলে সন্দেহভাজন হিসেবে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) সাদিক মিয়ার আপন বড় ভাই শাহিনুর রহমান ওরফে শানুর মিয়াকে (৫০) আটক করেছিল পুলিশ। শানুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর বাড়ির পাশে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয়দের দাবি, আটক করার পর অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে বা তার পরিবারকে শ্বশুরবাড়ি কিংবা জন্মস্থানের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি এর আগে জানান, গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এলাকার মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।