যে বয়সে মাঠে ছুটে বেড়ানো বা সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দিন কাটছে সাড়ে চার বছরের শিশু রায়াতের। দুই কিডনিতে পানি জমার কারণে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। সুস্থ হয়ে হাফেজ হতে চাওয়া এই ছোট্ট শিশুটির চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার আকুতি এখন ভারী করে তুলেছে হাসপাতালের পরিবেশ।
ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার কশালগাঁও-রেলস্টেশন এলাকার দিনমজুর নূর আলম ও রুপালী বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে রায়াত দ্বিতীয়। তাদের নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি নেই; সরকারি জমি লিজ নিয়ে বসবাস করছে পরিবারটি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে রায়াতের দুই কিডনিতে পানি জমে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার শারীরিক জটিলতা। মাঝেমধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে এবং তার চোখ ও পেট ফুলে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা উঠলে রায়াতকে বেশ কয়েকটি বিশেষ ইনজেকশন দিতে হয়, যার প্রতিটির দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা। দিনমজুর বাবার পক্ষে এত ব্যয়বহুল ইনজেকশন ও নিয়মিত ওষুধের খরচ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রায়াতের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। ফলে আপাতত ব্যথা উঠলে ওষুধ ও ইনজেকশনের মাধ্যমেই তার কষ্ট কমাতে হবে।
দীর্ঘ এক মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে রায়াত। ছেলের এই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে দিনমজুর বাবা নূর আলম তার জীবনের সম্বল বলতে থাকা চারটি গবাদিপশু বিক্রি করে দিয়েছেন এবং চড়া সুদে করেছেন ধারদেনা। বর্তমানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই যেখানে দায়, সেখানে ছেলের চিকিৎসা চালানো তাদের জন্য এক চরম যুদ্ধ।
প্রতিবেশী জুয়েল, শিউলী ও রাহাত জানান, অত্যন্ত অসচ্ছল এই পরিবারটির পক্ষে ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করা আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রায়াতের মা-বাবা চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুপালী বেগম বলেন, "ছেলের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। ও যখন ব্যথায় কাঁদে, মনে হয় বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু টাকা না থাকলে কীভাবে চিকিৎসা করাব?" বাবা নূর আলম বলেন, "আমি দিনমজুর মানুষ, প্রতিদিন কাজও জোটে না। ছেলেটাকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই।"
এদিকে, রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দীন জানান, শিশু রায়াতের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম: ছোট্ট রায়াতের চিকিৎসায় সহায়তা করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে— ০১৭৫২১০৭২৫৭ (বিকাশ-নগদ)।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!