চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে রোগবালাই বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১২ দিনে (১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট রাত ৯টা পর্যন্ত) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৫৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে দুটি কেবিনসহ মোট শয্যা রয়েছে মাত্র ২২টি (২০টি সাধারণ শয্যা ও ২টি কেবিন)। কিন্তু প্রতিদিন এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট চরমে পৌঁছেছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ শিশু চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। সীমিত জনবল ও কম শয্যা নিয়ে এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়া জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা ওয়ার্ডে আসছে। চার মাস বয়সী শিশু জাবের হোসেন ও এক মাস বয়সী শিশু রায়হানের মতো অনেক শিশুকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণে শিশুরা নানা অসুস্থতায় পড়ছে। রোগীর এই অস্বাভাবিক চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন: শিশুকে অতিরিক্ত গরম বা ঘামা শরীরে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া বা খেতে না চাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি ছয় মাস পর বয়সোচিত পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে শিশুদের কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!