স্পেনকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জেতানোর পরই দুঃসংবাদ পেলেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা মিডফিল্ডার রদ্রি। পিঠের চোটের কারণে আগামী সপ্তাহে অস্ত্রোপচার করাতে হবে সদ্য বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডারকে।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির নতুন প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা।
২০২৪ সালে এসিএল (অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে পড়ার পর গত মৌসুমের বড় একটি সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল রদ্রিকে। চোট কাটিয়ে ফিরে তিনি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে এবার নতুন করে পিঠের সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হচ্ছে।
রদ্রি কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি মারেস্কা। তবে তিনি জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর বিশ্রাম ও পুনর্বাসন শেষে রদ্রি আবারও দলে ফিরবেন।
রদ্রিকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন ক্লাবে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও সেসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ।
মারেস্কা বলেন, ‘বড় খেলোয়াড়দের ঘিরে সবসময়ই নানা জল্পনা-কল্পনা থাকে। তাই আমি এ নিয়ে চিন্তিত নই। এটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে তারা বিশ্বকাপ জিতেছে, আর রদ্রি সেখানে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিল। বিশ্বের প্রতিটি কোচই রদ্রির মতো একজন ফুটবলারকে দলে চাইবে, কারণ সে অসাধারণ মানের খেলোয়াড়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে এখন তার অস্ত্রোপচার হবে, সম্ভবত সোমবার। এরপর তার ছুটি প্রয়োজন, বিশ্রাম প্রয়োজন এবং সুস্থ হয়ে সে আবার আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল মারেস্কার প্রথম সংবাদ সম্মেলন। কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলা গত মৌসুম শেষে দায়িত্ব ছাড়ার পর তার উত্তরসূরি হয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
এর আগে গার্দিওলার কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন মারেস্কা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ম্যানচেস্টার সিটিতে ফিরে নিজেকে যেন নিজের ঘরেই ফিরে আসা মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচের উত্তরসূরি হওয়ার চ্যালেঞ্জকেও তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময় পার করেছে। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি ১৭টি বড় শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ এবং ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটি- এই তিন ক্লাব মিলিয়ে কোচ হিসেবে মোট ৩৫টি বড় ট্রফি জিতেছেন তিনি।
গার্দিওলার উত্তরসূরি হওয়া প্রসঙ্গে মারেস্কা বলেন, ‘এটি আমার জন্য বিশেষ সম্মানের। ক্লাব আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই বড় পাওয়া। আমি বহুবার বলেছি, গত ২০-২৫ বছরের মধ্যে পেপ সম্ভবত বিশ্বের সেরা কোচ। তার জায়গায় দায়িত্ব নেওয়া অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে এটি আমার জন্য গর্বের বিষয়।’
৪৬ বছর বয়সী মারেস্কার এটি ম্যানচেস্টার সিটিতে তৃতীয় দফার যাত্রা। ২০২০-২১ মৌসুমে তিনি ক্লাবটির একাডেমি কোচ ছিলেন। পরে ২০২২-২৩ মৌসুমে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও এফএ কাপ জিতে ঐতিহাসিক ট্রেবল পূর্ণ করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি।
নতুন কোচ হিসেবে নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করে মারেস্কা বলেন, ‘সম্ভবত ক্লাব আমাকে বেছে নিয়েছে কারণ তারা আগের কোচের দর্শনের সঙ্গে আমার কিছু মিল দেখেছে। আমরা সবসময় বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাই, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাই এবং নিজেদের খেলার ধরন প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই। আর ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ম্যাচ জেতা—আমাদের লক্ষ্যও সেটাই।’

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!