ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় স্ত্রী ও দুই বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার অভিযোগ উঠেছে তরিকুল ইসলাম হৃদয় (২৪) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীর কিশোর ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হৃদয়কে রামদাসহ আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে আশুলিয়ার এয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে, নরসিংহপুর সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হৃদয় নিশ্চিন্তপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। ভুক্তভোগী স্ত্রী মাকসুদা আক্তার ফাতেমা (২২) মো. মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়ার মেয়ে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে তরিকুল ইসলাম হৃদয় ১০-১৫ জনের একটি দল নিয়ে একটি গাড়িতে করে স্ত্রীর বাবার বাড়ির সামনে আসেন। এ সময় তাদের সবার হাতে রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালের মতো ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মাকসুদা ও তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়।
বোনের আর্তচিৎকারে তার ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাই ইউসুফ তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে ইউসুফ সাভার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাকসুদার চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন এবং মূল অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হৃদয়কে একটি রামদাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।
ভুক্তভোগী মাকসুদা আক্তার ফাতেমা দাবি করেন, তার স্বামী তাকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্বামী তাকে কোনো ধরনের ভরণপোষণও দিতেন না। ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে হত্যার জন্য এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, হামলায় অংশ নেওয়া হৃদয়ের সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ও তার কোলের শিশুসন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!