নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে বাবা ও ছেলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছেলে শহিদ আহম্মেদ (২৭) গুরুতর আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৭ মিনিটে উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নাজমুল হোসেনের মুদিখানা দোকানের সামনে পাকা সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত শহিদ আহম্মেদের বাবা মো. আব্দুল আজিজ সোহাগ (৫০) গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে একই গ্রামের মো. আজমল হক (৪৩), তাঁর ছেলে মো. শিশির আহমেদ (১৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আব্দুল আজিজ সোহাগ তাঁর ছেলে শহিদ আহম্মেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় অভিযুক্তদের হাতে ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার পাইপ ও কাঠের বাটাম ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আজমল হক এর নির্দেশে তার ছেলে শিশির আহমেদ চাপাতি দিয়ে শহিদের মাথার বাম পাশে এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোহার পাইপ দিয়ে শহিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আব্দুল আজিজ সোহাগকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শহিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠান। স্বজনেরা তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এজাহার অনুযায়ী, শহিদের মাথায় একটি স্থানে ১২টি এবং অন্য স্থানে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এজাহারে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় আলমগীর হোসেন, বাবু ও শফিকসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন আহতের বাবা আব্দুল আজিজ সোহাগ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজমল হক বলেন, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় আমি পিপলা বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌঁছালে সোহাগ ও তার ছেলে শহীদ অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করতে শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের ডাক চিৎকারে আমার ছেলে শিশির আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত অফিসার এসএম রিয়াজুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।